আসুন আমরা কুরআন শিখি, ইহকাল-পরকাল উজ্জ্বল করি।



"প্রত্যেক আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।"
মৃত্যু পরবর্তি জীবনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চিন্তা বয়সের সাথে সাথে মনের ভেতর জেকে বসছে।

কুরআন শেখা ফরজ। তেলাওয়াত উদ্দেশ্য নয়, কুরআন পড়ে মর্মার্থ উপলব্ধি করা। এটা বাচ্চাদের শেখানো এবং নিজে শেখা ফরজ। এই ফরজ ঠিক-ঠাক মত আদায় করতে পারলে ইনশা আল্লাহ কুরআনের সমাজ গঠনের কাজ অনেকখানি এগিয়ে যাবে।

আসুন আমরা কুরআন শিখি, ইহকাল-পরকাল উজ্জ্বল করি।

Thursday, July 11, 2013

দরস- তিন


Auzubillahi minash shaitanir razim, Style- Diwani

আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইতানির রাজিম।
( أعـوذ بالـلـــــــــــه مـن الشـيـطـان الـرجـيــم )
আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইতানির রাজিম।
 অর্থ- আমি আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।

এটি কুরআনের আয়াত নয়।

আরবিতে একে تَعَوَّذَ (তা'য়াউউজ) এবং  الاستعاذة (আল ইসতি'য়াজাহ) বলে।

সুরা নাহলের ৯৮ আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়া'লা নির্দেশ দেন-
فإذا قرأت القرآن فاستعذ بالله من الشيطان الرجيم
"যখন তুমি কুরআন পড়বে, (পড়ার শুরুতে) তখনই আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে।"

এ আয়াতে প্রথম 'ফা' দিয়ে হাল (অবস্থা, পরিস্থিতি) এবং পরের 'ফা' দিয়ে জুল হালের জবাব (করণীয়) হিসেবে ইসতায়ি'জ (আশ্রয় চাও) নির্দেশ বাচক(আমরের ছিগা) শব্দের মাধ্যমে পুরা বাক্য পড়তে বলা হয়েছে। অর্থাৎ বলতে হবে- "আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতানির রাজিম"।

শব্দ বিশ্লেষণ ও এ সংক্রান্ত আয়াত:
 أعوذ (আউ'উজু) ক্রিয়া বাচক শব্দটি العوذ (আল আ'উজু) থেকে উদ্ভুত। এর দুটো অর্থ।
এক. الالتجاء والاستجارة (আল ইলতিজাউ ওয়া আল ইসতিজারাহ) অর্থাৎ- আশ্রয় প্রার্থনা করা।
দুই. الالتصاق (আল ইলতিসাক্ক) বেস্টন করে নেয়া। যেমন-
أعوذ بالله ، أي : ألتجئ إلى رحمة الله تعالى وعصمته ، وعلى الوجه الثاني معناه ألتصق نفسي بفضل الله وبرحمته
আউজু বিল্লাহ ১ম অর্থ- আমি আল্লাহর রহমতের দিকে আশ্রয় ও তার দূর্গে আশ্রয় চাই। দ্বিতীয় অর্থ- আমাকে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে বেষ্টন করে নিচ্ছি।

আউ'উজু শব্দটি কুরআনে ১১৩ ও ১১৪ নং সুরার প্রথমে আছে।

بالله - বিল্লাহ ( বা+আল্লাহ) ب হরফে জার। অর্থ- নিকটে, কাছে। আল্লাহর কাছে।

 من - থেকে, হতে। হরফে জার।

الشيطان - এর দুটো বর্ণনা রয়েছে।
এক. শব্দটি الشطن (আল শাতন) থেকে উদ্ভূত। অর্থ- দূর। মানুষ এবং জ্বিনদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যে আল্লাহর হেদায়েতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে লিপ্ত থাকে। সুরা আন'আমের ১১২ আয়াতে বলা হয়েছে-
 وكذلك جعلنا لكل نبي عدوا شياطين الإنس والجن
"এবং আমি এভাবে প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ শয়তান এবং জ্বিন শয়তানকে শত্রু বানিয়েছি।"

এ শব্দটির বহুবচন  شياطون (শাইয়াতুন) । হালাতে নসব বা ফাতাহ বা জবর হলে شياطين (শাইয়াতিন) হবে।

দুই. যে তার নাফস বা আত্মাকে বাতিল বা ভ্রান্তের দিকে নিয়ে গেছে।

الرجيم - (আল রাজিম) একটি অর্থ অভিশপ্ত বা লানত প্রাপ্ত। ملعون (মাল'উন) যে তার চেহারাকে অভিশাপে বিকৃত করেছে।
সুরা আল হিজর ৩৪ আয়াতে বলা হয়েছে-
فاخرج منها فإنك رجيم
"উহা (জান্নাত) থেকে এখনই বের হয়ে যা। নিশ্চয়ই তুই এখন (থেকে) অভিশপ্ত।"



Auzubillahi minash shaitanir razim, Style- Naskh

সুরা হা-মিম সাজদা (ফুস্সিলাত) ৩৬ আয়াতে বলা হয়েছে-
وإما ينزغنك من الشيطان نزغ فاستعذ بالله إنه سميع عليم
"যখন তুমি শয়তানের প্ররোচনা অনুভব কর, তখনই (সাথে সাথে) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (অর্থাৎ- "আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতানির রাজিম" বলো।) নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) সবকিছু শুনেন জানেন।"

তা'য়াউজের বিধান:
কুরআন পড়ার শুরুতে "আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতানির রাজিম" বলা ফরজ। কুরআনে  আমর (আদেশ বাচক শব্দ) এবং নাহি (নিষেধ বাচক শব্দ) ফরজ (অবশ্য পালনীয়) করা হয়েছে। তবে পড়া শুরুর পর প্রতি সুরার প্রথমে বিসমিল্লাহর সাথে এটা পড়া আবশ্যক নয়।
যখন তুমি শয়তানের প্ররোচনা অনুভব কর, তখনই (সাথে সাথে) "আউজুবিল্লাহি মিনাশ্শাইতানির রাজিম" বলো।

Monday, July 8, 2013

দরস- দুই

Bismillahir rahmanir rahim- Jali Diwani style.

বিসমিল্লাহ সম্পর্কিত হাদিস:

বিসমিল্লাহ'র আয়াত নাযিলের পূর্বে মানুষেরা কী লিখত?

আবদুর রাজ্জাক, ইবনে সা'দ, ইবনে আবি শাইবা এবং ইবনে আবি হাতেম... আল শা'বি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলি যুগে মানুষেরা লিখত- বি ইসমিকা আল্লাহুম্মা। তখন রাসুলের (স.) পক্ষ থেকেও লেখা হত- বি ইসমিকা আল্লাহুম্মা।

 তারপর আয়াত নাযিল হল- বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা। তখন বিসমিল্লাহ লিখতে বললেন রাসুল (সা.)। এরপর নাযিল হল- উদউল্লাহা ওয়া উদউর রহমান। তখন রাসুল (স.) লিখার প্রচলন করলেন- বিসমিল্লাহির রাহমান।

অবশেষে আয়াত নাযিল হল- ইন্নাহু মিন সুলাইমানা ওয়া ইন্নাহু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এরপর থেকে রাসুল (সা.) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখার প্রচলন করেন।


Innahu min Sulaimana wa innahu- Naskh style 


Bismillahir rahmanir rahim- Thuluth style







বিসমিল্লাহকে আরবিতে তাসমিয়াহ تسمية এবং ক্যালিগ্রাফির ভাষায় বাসমালাহ بسمله বলে।

আল কুরআনে ১১৩টি সুরার শুরুতে এবং সুরা নামলে ভেতরেসহ দুই বার বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা হয়েছে। সুরা তাওবায় এটি নেই।


রসমুল কুরআন (কুরআন লেখার পদ্ধতি):
রাসুল স. নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) কে লেখার শুরুতে মাঝ বরাবর রাখো।
Sura Ikhlas, Mushaf kufi style, Calligrapher- Mohammad Abbur Rahim, Bangladesh


বিসমি بسم শব্দটি থেকে আলিফ বাদ দেয়া হয়েছে এবং বা ب হরফটির খাড়া রেখাটি লম্বা করে লেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হাদিসে বিসমি بسم শব্দের বা ب এবং সিন س   হরফের মধ্যে আনুভুমিক রেখাকে লম্বা না করে স্বাভাবিক রাখতে বলা হয়েছে। তবে সিন س ও মিম م হরফের আনুভূমিক রেখা লম্বা করাতে কোন দোষ নেই।

بـــــسم  বা ও সিনের মাঝে এভাবে লম্বা করা ভুল।
بســـــــــم  এভাবে লেখা বৈধ।


ব্যাকরণ:
বা হরফে জার। কোন শব্দের পূর্বে হরফে জার আসলে শব্দটি মু'রাব( শব্দের শেষে জবর বা জের গ্রহণকারী) হলে জের হবে শেষ হরফে। এখানে আল্লাহ শব্দটি মু'রাব। এজন্য শব্দের শেষ হরফ হা জের গ্রহণ করেছে। কিন্তু মাবনি শব্দের শেষে এরাব(জবর/জের গ্রহণ করা) পরিবর্তন হয় না।

হরফে জার আছে মূল ১৭টি।
ب ت ك ل و منذ مذ خلا رب حاشا (مع) من عدا في عن علي حتي الي

আর রাহমান এবং আর রাহিম শব্দদ্বয় আল্লাহ শব্দের সিফাত। এজন্য শব্দদ্বয়ও মাজরুর(জের গ্রহণকারী) হবে।

Monday, July 1, 2013

দরস- এক

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

Bismillahir rahmanir rahim

بسم الله الرحمن الرحيم

Bismillahir rahmanir rahim, style- Naskh

بسم = ب+اسم --------- with name. নামে ....... ب- with,সাথে/এ   اسم- name, নাম
الله -------------------- Allah আল্লাহ
الرحمن ---------------- Merciful (for all) দয়ালু (সবাইকে সাধারণভাবে দয়া করেন)
 الرحيم ---------------- Merciful (for special) দয়ালু (বিশেষভাবে কাউকে দয়া করেন)


আসুন আমরা কুরআন শিখি, ইহকাল-পরকাল উজ্জ্বল করি।


"প্রত্যেক আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।"
মৃত্যু পরবর্তি জীবনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চিন্তা বয়সের সাথে সাথে মনের ভেতর জেকে বসছে।

কুরআন শেখা ফরজ। তেলাওয়াত উদ্দেশ্য নয়, কুরআন পড়ে মর্মার্থ উপলব্ধি করা। এটা বাচ্চাদের শেখানো এবং নিজে শেখা ফরজ। এই ফরজ ঠিক-ঠাক মত আদায় করতে পারলে ইনশা আল্লাহ কুরআনের সমাজ গঠনের কাজ অনেকখানি এগিয়ে যাবে।

আসুন আমরা কুরআন শিখি, ইহকাল-পরকাল উজ্জ্বল করি।